নবাবপুরের মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্ট
৯৫ বছর ধরে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার
Advertisement
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরান ঢাকার নবাবপুরের মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্ট ৯৫ বছর ধরে দুপুরে বিনামূল্যে খাবার খাওয়াচ্ছে। এক দিনের জন্যও থেমে নেই তাদের এ আয়োজন। সব ধর্মের লোক প্রতিদিন দুপুরে এ ট্রাস্টের খাবার খেয়ে থাকেন। এখানে জাত ধর্ম নয়, যার ক্ষুধা লাগে সেই দুপুরে খাবার খান।
ট্রাস্টের ম্যানেজার শিবুল চক্রবর্তী বলেন, ১৯২৪ সালে নবাবপুরের মদনমোহন পালের তিন ছেলে রজনীকান্ত পাল, মুরলীমোহন পাল ও প্রিয়নাথ পাল তাদের বাবার নামে অন্নছত্র ট্রাস্ট গঠন করেন। ওই সময় দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। তাই প্রজাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। মদনমোহন কখনও চাননি তার প্রজারা অনাহারে থাকুক। তিনি নিজেও প্রজাদের খাবার খাওয়াতে ভালোবাসতেন।
কখনও যেন বিনা মূল্যে খাবার খাওয়ানো বন্ধ না হয় সে জন্য তখনকার সময় তাদের নয়টি বাড়ি ট্রাস্টের নামে লিখে দেয়া হয়। সেই নয়টি বাড়ি এখন নয়টি মার্কেটে পরিণত হয়েছে। যার আয় দিয়ে ৯৫ বছর ধরে এক দিনের জন্যও থেমে নেই ট্রাস্টের বিনা মূল্যে খাবারের আয়োজন। যিনি ক্ষুধার্ত তিনি এসে এখানে খাবার খেতে পারবেন। পুরান ঢাকার মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টে বেলা ১১টার দিকে গেলে দেখা যায়, ট্রাস্টের সেবকরা রান্না শেষ করে তৈরি হচ্ছেন মেহমানদের দুপুরে খাওয়ানোর জন্য। এখানে আশা সব মেহমান দুই সারিতে বসে আছেন।
মো. রফিক নামে এক বৃদ্ধ জানান, তিনি ২০ বছর ধরে এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে আসছেন। এখানকার খাবার তার কাছে খুব ভালো লাগে। তার এখানে খেতে কোনো রকম সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, এখানকার লোকজন দুপুর বেলা খুব ভালোভাবে সবাইকে খাবার খাওয়ায়।
নবাবপুরে একটি মার্কেটে লেবারের কাজ করেন বরিশালের জসিম। আগে টাকার জন্য দুপুরে সবসময় খেতে পারতেন না। তিন বছর ধরে তিনি দুপুরে এ ট্রাস্টের খাবার খাচ্ছেন। তার কাছে অন্য জায়গার চেয়ে এখানকার খাবার বেশি ভালো লাগে। বিভিন্ন উৎসবে এখানকার খাবারের মেন্যু পরিবর্তন হয় বলে জানান তিনি। মাঝে মাঝে মণ্ডামিষ্টান্ন থেকে হরেক রকম ফলও খাওয়ানো হয়।
মদনমোহন অন্নছত্র ট্রাস্টের প্রধান বাবুর্চি স্বপন চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, এখানকার আগে একটা মন্দিরে রান্না করতাম। আমার হাতের রান্না করা খাবার খেয়ে সবাই প্রশংসা করে। ট্রাস্টের ম্যানেজার আমাকে এখানে বাবুর্চি হিসেবে নিয়ে এসেছে। দশ বছর ধরে আছি এখানে। তিনি জানান, প্রতিদিন ৩৫ কেজি চাল, ১ মণ সবজি ও ৬ কেজি ডাল রান্না করা হয় মেহমানদের জন্য। এখানে আসা মেহমানদের ভালোভাবে খাওয়ানোর জন্য এক দল সেবক সব সময় কাজ করেন। ধর্ম এখানে বড় বিষয় নয়। মানবসেবাই বড়।
